সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে নিহত ২৫

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত । ছবি : সংগৃহীত

ঈদের দ্বিতীয় দিনে সারাদেশে এক দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন, হবিগঞ্জে বাসের সাথে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে চারজন, ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন, কুষ্টিয়ায় একজন, নাটোরে একজন, কিশোরগঞ্জে দুই বন্ধু, সুনামগঞ্জে একজন এবং কুড়িগ্রামে একজন নিহত হয়েছেন। নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো-

কুমিল্লা

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) এবং মরিয়ম (৪), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬), যশোরের চৌগাছের ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯), ঝিনাইদহ সদরের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।

স্থানীয়রা জানান, রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি বাস রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়লে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। এই ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে।

ট্রেনের যাত্রীরা জানান, আমরা বাসে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকি ও বিকট শব্দে ঘুম ভাঙতেই দেখি ট্রেন বাসটিকে মুখে করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসের ভেতরটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত নার্স মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের মেঝেতে ১২ জনের লাশ পড়ে আছে। এদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ নারী ও তিন শিশু রয়েছে। ভর্তি আছে ৪ জন। চিকিৎসা নিতে চলে গেছেন প্রায় ১৫ জন।

এ ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই গেটম্যান হলেন হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ফেনী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত  হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন।হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

রোববার (২২ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনের কাজ চলছিল। এ সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এমতাবস্থায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরো কিছু বাসের জট লেগে যায়। তার কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার, ও একজন যাত্রী নিহত হন।

হবিগঞ্জ

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।

রোববার (২২ মার্চ) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এরই মধ্যে ৩ জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন- পিকআপ চালক সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার ইব্রাহিম মিয়া, কিশোরগঞ্জের আছমা আক্তার ও তার ছেলে সজিব (১২)। অপরজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আছমার স্বামী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় একটি পিকআপ ও একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপটি উল্টে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা খাদে একটি পিকআপ উল্টে পড়ে থাকতে দেখে মাধবপুর থানা ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপের নিচে থেকে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, নিহতরা সবাই পিকআপের যাত্রী ছিলেন। নিহত তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপরজনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

কুষ্টিয়া 

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে নয়ন শেখ (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে।

রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর লুৎফর রহমানের ইটভাটার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নয়ন জেলার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে ও পাইকপাড়া মির্জাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর লুৎফর ইটভাটা এলাকায় সড়কের ধারে কিছু তালগাছ রয়েছে। সেখানে পথচারীরা যানবহন থামিয়ে বিশ্রাম নিয়ে থাকেন। আবার অনেকেই যান বিনোদনের জন্য। সেখানে নয়নসহ তার বন্ধুরা মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে যায়। সেখান থেকে নয়ন মোটরসাইকেল নিয়ে খোকসার দিকে যাচ্ছিল। পথে মোটরসাইকেলের ব্রেকে চাপ দিলে পিছনের চাকা স্লিপ করে সড়কের ধারে অবস্থিত বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে নয়ন গুরুতর আহত হলে তার বন্ধুরা তাকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাটোর

নাটোরের বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় জুলফিকার আলী (৩০) নামে এক প্রকৌশলী নিহত হয়েছে।

রোববার (২২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের গড়মাটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জুলফিকার আলী পাবনার ঈশ্বরদীর নওদাপাড়া এলাকার আনছার হকের ছেলে। ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। আগামীকাল সোমবার তার বিয়ের আয়োজন চলছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা জানায়, আগামীকাল জুলফিকার আলীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। আজ সকালে বোন-দুলাভাইকে নিতে নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে পাবনার দাশুড়িয়া থেকে নাটোরের বনপাড়ায় যাচ্ছিালেন। পথে বড়াইগ্রামের গড়মাটি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা লাগে। এতে প্রাইভেট কারটি দুমড়ে মুচড়ে ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। লাশ পরিবারের কাছে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।

কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পিকআপ ভ্যানের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের কুলিয়ারচর উপজেলার দাড়িয়াকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন দাড়িয়াকান্দি এলাকার বিজয় (১৮) ও তার বন্ধু জাবির হোসেন (১৮)। আহত অপর যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মুরগিবাহী একটি পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিজয় ও জাবির নিহত হন।

কুলিয়ারচর হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ সুমন কুমার চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই পিকআপ ভ্যানটি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুনামগঞ্জ 

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সাফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে।

রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার গাগলী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক শান্তিগঞ্জের মুক্তাখাই গ্রামের মৃত উকিল আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জের নিজ গ্রাম মুক্তাখাই থেকে সাফিকুল ইসলাম ও তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেল করে তাহিরপুরের পর্যটন কেন্দ্র শিমুল বাগানে ঘুরতে যাওয়ার জন্য রওনা দেন। উপজেলার গাগলী এলাকায় এসে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। পরে সেখানে থাকা স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাফিকুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। তার সাথে থাকা দুই বন্ধুর মধ্যে সাইদুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাকে সিলেট  ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং একজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডিউটি অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনজনের মধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে এবং একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সিলেটে রেফার করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাউদা খাতুন (১১) নামে এক শিশুর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা-মা গুরুতর আহত হয়েছেন।

রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে চর রাজিবপুর উপজেলার চর রাজিবপুর ইউনিয়নের বটতলা কারিগরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হারুয়া বাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামের মো. সাইফুল ইসলাম (৪৫) তার স্ত্রী মোছা. ঝরণা বেগম (৩১) ও মেয়ে সাউদা খাতুনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে শ্বশুরবাড়ি রৌমারীর উদ্দেশে রওনা দেন। পথে বটতলা কারিগরপাড়া এলাকায় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাককে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিন আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনায় সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান। এ সময় তাদের মেয়ে সাউদা খাতুনের ডান হাত ভেঙে যায় এবং তার অবস্থা গুরুতর হলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই সাউদা খাতুনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।

চর রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুসা মিয়া বলেন, দুর্ঘটনায় আহত শিশুটির মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।