ভুল ও অপতথ্য প্রতিরোধ আমাদের জন্য যুদ্ধে পরিণত হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভুল এবং অপতথ্য প্রতিরোধ করাটা একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকেও এটা আমাদের জন্য এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে একসঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে মতপ্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারও বাড়ছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

মন্ত্রী বলেন, আলোচনায় এসেছে যে সারা পৃথিবীতেই এবং আমাদের জন্য তো অবশ্যই ভুল এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা একটা প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দিক থেকেও এটা আমাদের জন্য এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে যেভাবে মানুষের জন্য সুযোগ রয়ে গেছে, সেই সুযোগে অপতথ্য প্রচারকারীরা একটা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করছে সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনে। সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং সরকার কীভাবে জনগণকে এই অপতথ্যের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে, এটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছিল একসময়ের চ্যালেঞ্জ। এখন শুধু স্বাধীনতা নয়, ভারসাম্যপূর্ণ স্বাধীনতাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যারা স্বাধীনতা একটু চর্চা করছেন, সেটা প্রতিষ্ঠান হোক অথবা ব্যক্তিই হোক, বিশেষ করে যখন সামাজিক মাধ্যমে আমরা দেখছি যে এই স্বাধীনতার অপব্যবহারটা এমন হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বেশি ভুক্তভোগী হয়ে পড়ছে। অতএব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অপতথ্যের হাত থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, দুটো কাজই তথ্য মন্ত্রণালয়কে একসঙ্গে করতে হচ্ছে।

বৈঠকের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় গন্তব্য হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমাদের মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দাতা হচ্ছে তারা। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশীদার হচ্ছে তারা। সেই বিবেচনায় আমাদের বন্ধুত্বকে আমরা আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা এবং সারা পৃথিবী এখন একটা মিডিয়া পরিস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এরকম একটা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটা দেশ এই নতুন ইকোসিস্টেমকে কীভাবে ম্যানেজ করে, এ ব্যাপারে আমরা পারস্পরিকভাবে আমাদের কীভাবে সহযোগিতা বিনিময় করতে পারি—এটাই ছিল মূলত আলোচনার বিষয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিশন ফর মিডিয়া কীভাবে কাজ করে এবং আমাদের এখানে একটা মিডিয়া কমিশন গঠন করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার ঘোষণা করেছে, সেই কাজটা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা আমাদের নৈতিক সহযোগিতা করবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা দুই পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্রের এখানকার রাষ্ট্রদূতদের কার্যালয় এবং আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আমরা পারস্পরিকভাবে খোঁজার চেষ্টা করব যে কোথায় আমরা গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করতে পারি।

সূত্র : ইউএনবি

  • গণমাধ্যম
  • ডিজিটাল প্লাটফর্ম
  • তথ্যমন্ত্রী
  • ফেডারেল কমিশন
  • মার্কিন রাষ্ট্রদূত
  • মিডিয়া
  • স্বাধীনতা