নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির লাশ দেশে পৌঁছেছে।
শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তার লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।
বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণ করতে উপস্থিত ছিলেন বৃষ্টির বাবা-মা ও নিকটাত্মীয়রা। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মেয়ের কফিন দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শোকাতুর স্বজনরা।
মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
একই ঘটনায় নিহত হন আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন। তিনিও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী ছিলেন।
মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ মে জামিলের মরদেহ দেশে আসে।
নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ।
১৬ এপ্রিল ওই দুইজন নিখোঁজ হন। তাদের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে তার পারিবারিক বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আবুঘরবেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়। এ ঘটনায় হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে হত্যার দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
