বিস্ফোরণের পর বিধ্বস্ত যানবাহনগুলোর চারপাশে মানুষের ভিড়।
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা থেকে ছেড়ে আসা একটি বাসে বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৮ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) কাজিবিও পৌরসভায় প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে চলন্ত বাসটিতে বিস্ফোরণ হয় বলে জানিয়েছেন কাউকা অঞ্চলের গভর্নর অক্তাভিও গুজমান।
এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান। মাদক পাচারকে ঘিরে ওই অঞ্চলে চলমান সহিংসতার জের ধরে এই হামলা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কাউকা স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব ক্যারোলিনা কামার্গো জানান, আহতদের মধ্যে ৫টি শিশু রয়েছে।
কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’এবং এর জন্য ‘ইভান মর্দিস্কো’ নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নেটওয়ার্ক এবং
‘হাইমে মার্তিনেস’ নামের এক গোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো এখনও ওই অঞ্চলে সক্রিয় এবং এরা বিলুপ্ত ফার্ক বিদ্রোহী সংগঠনের ভিন্নমতাবলম্বী একটি অংশ।
এই দল এবং ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই ২০১৬ সালে সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি মেনে চলে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘যারা এই হামলা চালিয়ে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, তারা সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং মাদক ব্যবসায়ী।’
এই হামলাটি সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ধারাবাহিক বিস্ফোরণের অংশ, যা মূলত জনসাধারণকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।
সেনাপ্রধান লোপেস জানান, গত দুই দিনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত ২৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রভাব পড়ছে বেসামরিক মানুষের ওপর।
এর মধ্যে হামুন্দি এলাকার একটি পুলিশ স্টেশনে গুলিবর্ষণ এবং এল তাম্বোতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একটি রাডার স্থাপনায় হামলাও করা হয়েছে। সেখানে বিস্ফোরকবাহী তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করে কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) কালি ও পালমিরায় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরকবাহী দুটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই ঘটনায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।
সম্প্রতি ওই অঞ্চলে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় আজ (শনিবার) জরুরি বৈঠকে বসেন উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেসের নেতৃত্বে পালমিরায় ওই বৈঠক চলাকালেই এই প্রাণঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটে।
সানচেস বলেন, ‘এই অপরাধীরা ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়, কিন্তু আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে এর জবাব দেব।’
এদিকে, ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চলের গভর্নর ফ্রান্সিসকা তোরো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ‘তাৎক্ষণিক সহযোগিতা’ চেয়েছেন। নিরাপত্তা জোরদার, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কর্তৃপক্ষের মতে, কাউকা ও ভায়ে দেল কাউকা অঞ্চল অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এসব পথ ব্যবহার করে বুয়েনাভেন্তুরা বন্দরের মাধ্যমে মধ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মাদক পাচার করেন তারা।
সরকার ‘মার্লন’ নামে পরিচিত এক গোষ্ঠীর নেতাকে ধরিয়ে দিতে তথ্যদাতাদের জন্য ১০ লাখ ডলারের বেশি পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এছাড়া কালি ও পালমিরায় হামলাকারীদের শনাক্ত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৪ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে
সূত্র : ইউএনবি
