কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে

লেখক: আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

ঢাকা মহানগরীসহ বিশেষ কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সাথে বিএনপির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সামনে রেখে দেশের কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত প্রায় দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হারে ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে। বিশেষ কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক সংখ্যক নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের যে তথ্য দিয়েছে, তাতে কোনো আসনেই দুই থেকে তিন হাজারের বেশি ভোটার মাইগ্রেশন দেখানো হয়নি। তবে বিএনপির ধারণা অনুযায়ী প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, কমিশনকে আসনভিত্তিক ভোটার মাইগ্রেশনের বিস্তারিত তথ্য জানতে অনুরোধ করা হয়েছে এবং কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে আশ্বস্ত করেছে। যদি সত্যিই কোনো গরমিল থেকে থাকে, তাহলে নির্বাচন কমিশনের উচিত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু অসাধু চক্র নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ভুয়া ভোটার বা অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশনের সঙ্গে তারাই জড়িত থাকতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে নির্বাচনী দায়িত্বে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-কে যুক্ত করার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানান নজরুল ইসলাম খান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা সমীচীন হবে না। এতে তারা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই এ কাজে বেশি উপযুক্ত বলে বিএনপি মত প্রকাশ করেছে। কমিশন বিষয়টি বিবেচনায় নেবে বলে জানিয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষকের অনুমোদনের তথ্য দেখা গেছে। কিছু কম পরিচিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক থাকায় বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়টি পর্যালোচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।