কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার সালামত উল্লার ছেলে মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), ঝিনাইদহের মহেশপুরের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬), তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) এবং মরিয়ম (৪), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৬), যশোরের চৌগাছের ফকির চাঁদ বিশ্বাসের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর সুধারাম এলাকার মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজউদ্দৌলার মেয়ে সায়েদা (৯), ঝিনাইদহ সদরের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।

স্থানীয়রা জানান, রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি বাস রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়লে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে যাওয়া মেইল ট্রেন। এই ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে।

ট্রেনের যাত্রীরা জানান, আমরা বাসে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকি ও বিকট শব্দে ঘুম ভাঙতেই দেখি ট্রেন বাসটিকে মুখে করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসের ভেতরটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত নার্স মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের মেঝেতে ১২ জনের লাশ পড়ে আছে। এদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ নারী ও তিন শিশু রয়েছে। ভর্তি আছে ৪ জন। চিকিৎসা নিতে চলে গেছেন প্রায় ১৫ জন।

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রীবাহী বাসটি রেললাইনে উঠে যাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ট্রেনটিকে উদ্ধার করতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।