ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কে?

লেখক: আউলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল, তার প্রভাবশালী ছেলে মোজতবা খামেনিও কি মারা গেছেন কি না।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু ও আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর কয়েক দিন কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তবে মঙ্গলবার (তেসরা মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, মোজতবা জীবিত আছেন এবং “দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে পরামর্শ ও পর্যালোচনা” করছেন। তবে তিনি এখনো জনসমক্ষে হাজির হননি।

রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশের নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা ৮৮ জন সদস্য নিয়ে গঠিত ধর্মীয় পরিষদ মোজতবা খামেনিকে তার বাবার উত্তরসূরি এবং ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে।

মোজতবা খামেনি ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়—যা বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান তার অনুমোদন না পেলে নতুন নেতা বেশিদিন টিকবেন না।

সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণার আগে অ্যাসেম্বলির এক সদস্য বলেন, নতুন নেতাকে “শত্রুর ঘৃণার পাত্র” হওয়া উচিত।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মোজতবা খামেনি গ্রহণযোগ্য পছন্দ হবেন না।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে

আলী খামেনিকে যতটা প্রকাশ্যে দেখা গেছে তার বিপরীতে তার ছেলে মোজতবা সাধারণত আড়ালে থেকেছেন। তিনি কখনো কোনো সরকারি পদে ছিলেন না। জনসমক্ষে বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকারও দেননি, এবং তার খুব সীমিত সংখ্যক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়েছে।

তবে বহুদিন ধরেই গুজব রয়েছে যে, তার বাবার কাছে যাওয়ার ‘গেটকিপার’ বা রক্ষক হিসেবে তার প্রভাব ছিল।

২০০০ দশকের শেষ দিকে উইকিলিকসে প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় তাকে ‘আড়ালের শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

সেখানে বলা হয়, শাসনব্যবস্থার ভেতরে তাকে ব্যাপকভাবে একজন ‘দক্ষ ও শক্তিশালী নেতা’ হিসেবে দেখা হতো। এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস)।

তবে মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরির সুযোগ আছে।

১৯৭৯ সালে রাজতন্ত্র উৎখাতের পর যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার নীতি ও আদর্শ অনুযায়ী, ধর্মীয় মর্যাদা ও প্রমাণিত নেতৃত্বের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণ করা উচিত, পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে নয়।

আলী খামেনি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে কেবল সাধারণ ভাষায় কথা বলেছেন।

দুই বছর আগে বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক সদস্য বলেছিলেন, আলী খামেনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রার্থী হিসেবে মোজতবার নামের বিরোধিতা করেছিলেন। তবে তিনি কখনো প্রকাশ্যে এ ধরনের ধারনা নিয়ে কথা বলেননি।

তাহলে মোজতবা খামেনি কে?

১৯৬৯ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা। তিনি খামেনির ছয় সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। তেহরানের ধর্মীয় আলাভি স্কুলে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলাকালে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বেশ কয়েকবার সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। আট বছরব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সন্দেহ আরও বেড়ে যায়, কারণ তারা ইরাককে সমর্থন করেছিল।

১৯৯৯ সালে তিনি ধর্মীয় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পবিত্র শহর কোমে যান, যা শিয়া ধর্মতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, এর আগ পর্যন্ত তিনি ধর্মীয় পোশাক পরতেন না। কেন তিনি ৩০ বছর বয়সে মাদ্রাসায় পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তা স্পষ্ট নয়, কারণ সাধারণত কম বয়সেই এ ধরনের শিক্ষা শুরু করা হয়।

মোজতবা এখনো মধ্যম পর্যায়ের এক ধর্মীয় আলেম। ফলে সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পথে এটি একটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সুত্র: বিবিসি