
রমজান সামনে রেখে নদী ও সমুদ্রে জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ বানিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে অভিযানে পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরে অভিযান চালায় দুদক জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম ১ এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক সুবেল আহমেদ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তার পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, ‘রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও দাম বাড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যে আমদানীকারকরা ইচ্ছাকৃতভাবে লাইটার জাহাজ থেকে দীর্ঘদিন যাবত পণ্য খালাস না করে নদী ও সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ আসে।’
দুদকের টিম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দফতরের বিভিন্ন নথিপত্র ঘেটে জানতে পারেন, স্বাভাবিক অবস্থায় একটি লাইটার জাহাজ যেখানে ১৫/২০ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করে পরবর্তী ট্রিপের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথা, দীর্ঘদিন ধরে পণ্যবোঝাই অবস্থায় নদী ও সাগরে ভাসছে বলে দুদক জানতে পেরেছে।
এছাড়া পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির ক্ষেত্রে যে অস্পষ্টতা রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যমান আইন ও বিধির আলোকে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।
দুদক জানায়, নৌপরিবহন অধিদফতরের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) ছাড়া কোনো লোকাল এজেন্ট বা পণ্যের এজেন্ট যেন বন্দরের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনে যুক্ত থাকতে না পারে সে বিষয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর নৌ বাণিজ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি অফিসিয়াল চিঠি দেন।
ওই নির্দেশনার পরও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অধিদফতর থেকে এনওসি গ্রহণ করছেন না বলে দুদককে জানান নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক।
এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা যাচাই করতে ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন), হারবার মাস্টার এবং ডেপুটি কনজারভেটর দফতররের বক্তব্য গ্রহণ করে দুদক।
এছাড়া লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে কী ধরনের আইন বা বিধি কার্যকর রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
সব তথ্য বিশ্লেষণ শেষে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশনের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানায়।
সূত্র : বিবিসি
