গতরাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেছে প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। তবে তাদের শিরোপা জয়ের উৎসব মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে সহিংসতায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই ফ্রান্সজুড়ে পুলিশ ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর ৪ শতাধিকের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় সময় রোববার (৩১ মে) ভোর পর্যন্ত মোট ৪১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে শুধু প্যারিস থেকেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮০ জন। এ ঘটনায় ৭ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
পিএসজি শিরোপা নিশ্চিত করার পরপরই প্যারিসের বিখ্যাত শঁজেলিজে সড়ক হাজার হাজার উৎসবমুখর সমর্থকে পূর্ণ হয়ে যায়। তবে সেই উৎসব দ্রুতই রূপ নেয় সংঘাতে। বিভিন্ন এলাকায় আতশবাজি ও ফ্লেয়ার ছোঁড়া হয়, রাস্তায় ইলেকট্রিক বাইকে আগুন দেওয়া হয় এবং একটি দোকানের কাঁচও ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ভিড়ের মধ্যে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে। এ সময় বাস, ট্রেন ও রেল পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহতে হয়ে কার্যত অচল হয়ে যায় দেশটির রাজধানী।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছয়টি যানবাহন, দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি বাস শেল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এই অস্থিরতাকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্তৃপক্ষ এবার ‘অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংহত ব্যবস্থা’ গ্রহণ করেছে।
গত বছর পিএসজি শিরোপা জেতার পরও একইরকম সহিংসতা হয়েছিল। ওই সময়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল।
ফ্রান্সের চরম ডানপন্থি নেত্রী মারিন লা পেন এক্সে লেখেন, ‘শুধু ফ্রান্সেই ফুটবল ক্লাবের বিজয়ের মতো আনন্দপূর্ণ ঘটনা দাঙ্গায় পরিণত হয়। শুধু এখানেই বিজয়ের রাতে আতঙ্কে সবাইকে ঘরে বসে থাকতে হয়।’
এদিকে, আজ (রোববার) বিকেলে পিএসজি খেলোয়াড়দের বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আইফেল টাওয়ারের পাশে শঁ-দ-মার্স প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ শেষে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তাদের জন্য বিশেষ সংবর্ধনা দেবেন।
