
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র বিজয় অনিবার্য এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও সেই চিত্র ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গুলশানে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি আজ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট থেকে টাকাভর্তি ব্যাগসহ আটক করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেছেন, বিএনপির অনিবার্য বিজয়ের বিপরীতে একটি গোষ্ঠী নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
‘ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে যাওয়ার পর নগদ অর্ধ কোটিরও বেশি টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে আটক করে পুলিশ। নির্বাচনে অবৈধ আর্থিক লেনদেন প্রতিহত করতে সকল ব্যাংক, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক লেনদেন-কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে জামায়াতের একজন নেতা কোন উৎস থেকে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে, কী উদ্দেশ্যে, কাদের দেওয়ার জন্য নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন?
তিনি এই বিষয়টিকে ‘আচরণবিধির লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনা ‘যারা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বয়ান তৈরি করেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনা তাদের সেই দুর্নীতিবিরোধী বয়ানের সাথে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ?’
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন যে এটিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নির্বাচনী আসন ঢাকা-১৫’সহ কুমিল্লা, নোয়াখালী, খুলনায়ও একই অবস্থা চলছে।
‘জামায়াত বাসায় বাসায় গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর নিয়েছিলো। দেশের অনেক জায়গায় তারা ভীতি ছড়াতে দেশি অস্ত্রসহ বাঁশ, পাইপ জড়ো করছে তারা। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বোরখা ও নিকাব বানানোর কথাও আমরা জানতে পেরেছি।’
‘ইসলামী মূল্যবোধের ধারক দল হিসেবে বিএনপি বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে বোরখা ও নিকাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারীদের আব্রু ও পর্দার বিষয়ে আমরা শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু ইসলামী সেই পোশাককে অপব্যবহার করে কেউ যদি মিথ্যা পরিচয়ে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে প্রতিরোধ করতে হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে বলেন তিনি।’
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান ‘বড় অঙ্কের টাকা’ নিয়ে ভ্রমণ করছেন, এই বিষয়টি বিমানে ওঠার আগেই শনাক্ত করেছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানে চলাচলের ক্ষেত্রে অর্থ বহনের পরিমাণ (একজন যাত্রী কত টাকা বহন করতে পারবেন) নির্দিষ্ট নয় বলেই এ নিয়ে বাড়তি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বুধবার বিকেলে এই তথ্য জানিয়েছেন হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।
তিনি বলেন, ‘টাকাটা যে নিয়েছে এটা আমরা আমাদের স্ক্রিনিংয়েই আইডেন্টিফাই (শনাক্ত) করেছি যে টাকাটা ক্যারি হচ্ছে।’
রাগীব সামাদ বলেন, ‘যেহেতু টাকার বিষয়টা একটু বড় এই কারণে কাস্টমসে আমরা শুধু একটু ভেরিফাই করেছি যে এটাতে তাদের কোনো সমস্যা আছে কি না। যদিও এটা কাস্টমসের একেবারেই এখতিয়ার বহির্ভূত। তারা মূলত কাজ করে দেশের বাইরে থেকে অ্যারাইভিং প্যাসেঞ্জারদের ক্ষেত্রে।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি এমন নয় যে কাস্টমস্ ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে বলেই আমরা টাকা পরিবহন করতে দিয়েছি। আমাদের অভ্যন্তরীণ রুটে টাকা পরিবহনের অ্যামাউন্টের কোনো সিলিং নির্ধারণ করে দেওয়া নাই।’
সূত্র : বিবিসি
