কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিনতাইকারী চক্র: র‍্যাব

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে
গ্রেপ্তার ৫ ছিনতাইকারী। ছবি: ইউএনবি

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছিনতাইকারী চক্র জড়িত বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ ঘটনায় কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং সুজন।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তাররা দূরদূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদের রাতের বেলা টার্গেট করে তাদের সিএনজি বা অটোরিকশায় তুলে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এবং আঘাত করে ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছিল। ঘটনার রাতে তারা সিএনজি নিয়ে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল।

তিনি বলেন, রাত ৩টার দিকে বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে জাগরঝুলি এসে বাস থেকে নামলে তারা তার গন্তব্যস্থল জানতে চায়। তখন তিনি জাঙ্গালিয়া যাওয়ার কথা বললে অটোরিকশার পেছনে যাত্রীবেশে থাকা সোহাগ ও হৃদয় তাদের পাশে বসতে বলে। সিএনজিটি জাঙ্গালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর সোহাগ ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলেট বৈরাগীকে আঘাত করে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। এ সময় ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তিও হয়।

তিনি আরও বলেন, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জনি চাকু বের করে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখায়, মারধর করে এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ, টাকা, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এ র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, অটোরিকশাটি কোটবাড়ি বিশ্বরোড অতিক্রম করলে তারা ভুক্তভোগীকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত সিএনজি থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

প্রথমে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ফলে মাথার পেছনে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে বুলেট বৈরাগী মারা যান বলে জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক।

র‍্যাব জানায়, গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট। এর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।

পরবর্তীতে নিহতের মা কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর র‍্যাব তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।

ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলিট ফোর্সটি ২৬ এপ্রিল কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় অপরাধে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, একটি চাপাতি, একটি সুইচ গিয়ার চাকু এবং একটি হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা একটি সংগঠিত অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তারা সাধারণত দূরপাল্লার যাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করত এবং তাদের অটোরিকশায় তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট চালাত।

র‍্যাব আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি এবং মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সূত্র : ইউএনবি

  • কাস্টমস কর্মকর্তা
  • কুমিল্লা
  • গ্রেফতার
  • ছিনতাই
  • বাংলাদেশ
  • র‍্যাব
  • হত্যাকাণ্ড