প্রতীকী ছবি

হরমুজ প্রণালি বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এবং তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টানেল। এই পথে পৃথিবীতে ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের এক-চতুর্থাংশেরও পরিবহণ করা হয়। আবার গ্যাস সরবরাহেরও মূল পথ। বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর এটিই প্রধান মাধ্যম। যা গত মাসে কৌশলগত গুরুত্বের কথা চিন্তা করে বন্ধ করে দেয় ইরান ।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেকোনো ধরনের জাহাজকে নতুন করে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালিতে এবার নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করছে ইরান। এই সমুদ্রপথে চলাচল করতে হলে এখন থেকে জাহাজগুলোকে তেহরানের পূর্বানুমতি নিতে হবে এবং নির্দিষ্ট টোল পরিশোধ করতে হবে। তবে চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারতসহ বেশ কয়েকটি বন্ধুপ্রতীম দেশ বিনাবাধায় যাতায়াত সুবিধা পাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরান।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে একটি যাচাইকরণ ও নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় জাহাজগুলোকে আগে থেকেই নিবন্ধন করে অনুমতি নিতে হবে।
ইতোমধ্যে শুধু একটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার থেকেই ২০ লাখ ডলার ফি আদায় করেছে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক টোল আদায়ও শুরু করল দেশটি।
পাশাপাশি হরজুম প্রণালি ব্যবহারে টোল আদায়ের জন্য নতুন করে ভেটিং বা যাচাইকরণ পদ্ধতি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি। এতে সব জাহাজকে ওই পথ পাড়ি দেওয়ার আগে নিবন্ধন করতে হবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
