ইরানের সাথে কাজ করার অঙ্গীকার পুতিনের

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ ঘন্টা আগে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বাগত জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে। ছবি: এএফপি

রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৈঠকে ইরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পুতিন।

সোমবার ভোরে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান আরাঘচি। সেখানে তিনি পুতিন ছাড়াও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান অ্যাডমিরাল ইগর কোস্তিউকভের সাথে বৈঠক করেন।

এই বৈঠকে খামেনির বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন আরাগচি। রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তি রয়েছে। ইরানে মার্কিন–ইসরাইলি হামলা শুরুর পর থেকেই মস্কো ও তেহরান সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। 

আজ বৈঠকে পুতিন জানিয়েছেন, ইরানসহ ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর স্বার্থে রাশিয়া সম্ভাব্য সবকিছু করবে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা পুরো বিশ্বকে প্রমাণ করে দিয়েছি যে, রাশিয়ান ফেডারেশনের মতো ভালো বন্ধু ও মিত্র ইরানের পাশে রয়েছে।’

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি রাশিয়ার ‘দৃঢ় ও অটল’ অবস্থানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আরাগচি বলেন, ‘আপনাদের এই অবিচল সমর্থনের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।’

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ। গত শনিবার পাকিস্তানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন আরাগচি। ওইদিনই তিনি ওমানে যান। সেখানে দেশটির আমিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর গতকাল পাকিস্তানে ফিরে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর রাশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।


সূত্রমতে, খুব শিগগিরই পুতিন, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি বিশেষ আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতিই হবে এই বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে এই সংঘাত নিরসনে এবং সমাধানের পথ খুঁজতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ইরানে অস্ত্র সরবরাহের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, রাশিয়া ইরানকে ড্রোন সরবরাহে রাজি হয়েছে। এমনকি মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান নিয়েও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর গুরুত্ব অতিমূল্যায়ন করা কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইসলামাবাদে তার দূতদের পরিকল্পিত সফর বাতিল করেন। তিনি বলেন, আলোচনায় আগ্রহী হলে ইরান নিজেই যোগাযোগ করতে পারে।

অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং ইসরাইলি হামলা চলতে থাকলে সরাসরি আলোচনা অর্থহীন।

চলমান সংঘাতে রাশিয়া নিজেকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে সমন্বয়ই ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে রাশিয়া-ইরান সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র : আল-জাজিরা,বিবিসি

  • ইরান
  • ইসরাইল
  • প্রেসিডেন্ট
  • ভ্লাদিমির পুতিন
  • মার্কিন
  • রাশিয়া