
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের নাম জড়িয়ে ‘একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে’ বলে অভিযোগ করেছে তার দল।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্যে টাকা প্রদানের যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া ও নৈতিকভাবে পরাজিত শক্তির ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।’
জনগণের সমর্থন বাড়তে থাকায় ‘ভীত হয়ে তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা’ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জামায়াতপন্থি আইনজীবী শাহরিয়ার কবির ঢাকা-১৫ আসনে প্রচারপত্র বিলি করার সময় একজন পান বিক্রেতার হাতে এক হাজার টাকার নোট গুঁজে দিচ্ছেন- এমন একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা–সমালোচনা চলছে।
এ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি দল ‘দেশজুড়ে টাকা দিয়ে ভোট কেনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে’।
এরপরই জামায়াতের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদ জানানো হলো।
টাকা দেওয়ার ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এ এস এম শাহরিয়ার কবির ওই পান বিক্রেতাকে ব্যবসা কেমন চলছে জানতে চাইলে মোটামুটি উল্লেখ করেন তিনি।
মোটামুটি কেন আবার জানতে চাইলে ওই বিক্রেতা তাকে বলেন, দেশের পরিস্থিতি ভালা না, বুঝেন না। সবাইতো ভয়ের মধ্যে, আতঙ্ক।
তখন তিনি জানতে চান, কী ভয়, আতঙ্ক কিসের?
এ সময় ওই ব্যক্তি উত্তর দেন, কোন বেলা কি কইরা বয়।
আবার প্রশ্ন করে শাহরিয়ার কবির ‘আমরাতো আপনাদের জন্যই’ এমন আশ্বাস দিয়ে ভয়ের কারণ জানতে চান।
‘নতুন সরকার আইলে কওন যাইবো। এখন সরকার নাই বুঝেন না’ বলেন ওই বিক্রেতা।
পরে আইনজীবী শাহরিয়ার কবির তার কাছেই জানতে চান কোন সরকার ভালো।
বিক্রেতা বলেন, ‘আইলেতো কওন যাইবো কোনটা ভালা। আমিতো চাই দেশ ভালা চলুক।’
একপর্যায়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা মুসলমান। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো, কারো ক্ষমতা আছে ভালো করার?’
এ সময় ওই ব্যক্তিকে তিনি আবার প্রশ্ন করেন, ‘রিজিকের মালিক কে? আপনার সঙ্গে এই মুহূর্তে আমার দেখা হবে, এটার মালিক কে?’
বয়োবৃদ্ধ ওই বিক্রেতা উত্তরে ‘আল্লাহ’ উচ্চারণ করলে শাহরিয়ার কবির প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে সে যেটা বলছে, তার বাইরে গিয়া দেশ চললে ভালো হবে?’
একইসাথে কতদিন বাঁচবেন এবং কবরে নাকি দুনিয়ায় বেশি দিন এমন প্রশ্নও করেন তিনি।
বিক্রেতা ‘কবর’ উত্তর দেওয়ার পর শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘কবরে ভালো থাকতে হবে, তাইলে ওই ব্যবস্থাটা করতে হবে। তাই না।’
কথোপকথন শেষ করে এই পর্যায়ে শাহরিয়ার কবির মানিব্যাগ থেকে এক হাজার টাকার নোটটি বের করে বিক্রেতাকে দিয়েই, সঙ্গীদের চলেন বলে সামনে এগোতে দেখা যায় ভিডিওটিতে।
এরকম আরেকটিতে ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ছোট শিশুদের হাতে ব্যাডমিন্টন কেনার জন্য টাকা তুলে দিচ্ছেন।
তিনজনের হাতে টাকা তুলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এডি আবার ভিডিও করে দেখায়া বইলো না যে আমি ভোটের জন্য টাকা দিছি। তোমাদের র্যাকেটের জন্য টাকা দিছি কিন্তু।’
যদিও ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে শাহরিয়ার কবির দুটি ঘটনার জন্যই ক্ষমা চেয়েছেন।
পান-সিগারেট বিক্রেতাকে টাকা দেওয়ার বিষয়টিকে মানবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
শাহরিয়ার কবির লিখেছেন, ‘আমি গত শনিবারে মিরপুর এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে জামাতের সমর্থনে গণসংযোগ কালে একজন পান ও সিগারেট বিক্রেতার সাথে আমার সাক্ষাৎকালে জানতে পারি যে, তার সারাদিন তেমন বেচা বিক্রি হয় নাই,এবং আমি সবার সম্মুখে ক্যামেরার সামনে এক হাজার টাকা দান করি মানবিক দিক বিবেচনা করে,ওই একই স্থানে আমি বাচ্চাদের র্যাকেট কেনার কিছু টাকা গিফট করি এবং মিডিয়াকে আমি স্পষ্টভাবে বলি এই মানবিক সাহায্যকে আপনারা অন্যভাবে দেখবেন না বা দেখার সুযোগ নেই।’
একইসাথে এই ঘটনায় ‘মানুষ হিসেবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী’ বলেও লিখেছেন তিনি।
