অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ১ মাস আগে
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ দিনে বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাঁড়াশি অভিযান, মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান তিনি।

সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রাক-নির্বাচনি সময়ে জনসাধারণকে যেসব লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল, সেই অস্ত্রগুলো এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি। সেই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে, যাতে শিগগিরই সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়।

 তিনি জানান, চিঠিতে তিন ক্যাটাগরিতে আগ্নেয়াস্ত্র ফেরতদিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: (১) ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির আগে লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র, (২) ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র এবং (৩) ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যুকৃত লাইসেন্সসমূহ যাচাই-বাছাইয়ের লক্ষ্যে ইতোপূর্বে গঠিত কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই শেষে যেসব লাইসেন্স নীতিমালা মোতাবেক ইস্যু হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হবে, সেসব লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান, মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহা নিরাপদ করতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সড়ক-মহাসড়কের ওপর এবং রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি-ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দেবে।

তিনি আরও জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হবে যাতে তৃণমূল পর্যায়েই সাত দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। ঢাকার প্রবাহিত বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র (ইটিপি) সিস্টেমের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় চামড়াগুলো যাতে সাত দিন পর ক্রমান্বয়ে ঢাকার দিকে আনা হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে জেলাপ্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর প্রধান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সুত্র: ইউএনবি

  • অবৈধ
  • অস্ত্র
  • উদ্ধার