নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অনুষ্ঠানে কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

উপদেষ্টা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন সম্মেলন কক্ষে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ প্রদান করেন।

উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে কাউকে আইনে ভঙ্গ করতে দেওয়া যাবে না। বেআইনি কাজ করলে তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। উপদেষ্টা এসময় আইন প্রয়োগ ও নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আত্মস্থ ও অনুসরণের নির্দেশ দেন।

নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুসরণের জন্য অধীন সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে প্রত্যহ অফিস শুরু কিংবা শেষে অথবা একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচনি প্রস্তুতি, বিভিন্ন সমস্যাবলি, বর্তমান কার্যক্রম, সামনের কর্মসূচি, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াদি এবং আচরণ বিধিমালা কার্যক্রম সম্পর্কে সভা আহ্বান করা যেতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা যাতে বজায় থাকে সেটি রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তারা চিহ্নিত ও ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে পরিচিত, তাদের কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনি দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা যাবে না। যারা পূর্ববর্তী নির্বাচনসমূহে অনিয়মে জড়িত ছিল, দলকানা কিংবা বিতর্কিত তাদের কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত করা যাবে না।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’-এর ব্যবহার, যেটি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম যুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, এ অ্যাপ তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও এর দ্রুত প্রতিকার/নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরো বলেন, অ্যাপটির ব্যবহার বিষয়ে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দ্রুত শেষ করতে হবে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভোট দেওয়ার বুথসহ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্বচ্ছ ও নির্বাচনের পরিবেশ উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে হবে। ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার মূল রাস্তা যাতে মসৃণ ও যাতায়াত উপযোগী থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

উপদেষ্টা বলেন, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ এগুলো যাতে যথাসময়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো যায়-সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

নিজের নির্বাচনি অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে যেকোনো পরিস্থিতিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব। তিনি সকলের সহযোগিতায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, আঞ্চলিক/জেলা/উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর ময়মনসিংহ বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।