নতুন রেকর্ড গড়ল বিটিএস

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে আবারো নতুন ইতিহাস গড়ল কে-পপ সুপারগ্রুপ (বিটিএস)। চার বছর পর ফিরে নিজেদের আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল তারা।

বিটিএস তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’ দিয়ে প্রমাণ করে দিল, জনপ্রিয়তার শিখরে থাকার জন্য বিরতি কখনোই বাধা নয়, বরং তা হতে পারে আরে বড় প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি।

অ্যালবামটি মুক্তির প্রথম দিনেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন কপি। যা কে-পপ ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। শুধু তা–ই নয়, এটি ভেঙে দিয়েছে নিজেদের আগের রেকর্ড, যেখানে ‘ম্যাপ অব দ্য সিওল: ৭’ প্রথম সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন কপি। এই সাফল্য শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, বরং একটি বার্তা-বিটিএস এখনো বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর একটি। এই সময়ের মধ্যে অন্য কোনো শিল্পী সেই মাইলফলক অতিক্রম করতে পারেনি। তবে এবার বিটিএস নিজেরাই সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

‘আরিরাং’ নামটি এসেছে কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী লোকগান ‘আরিরাং’ থেকে, যা বিচ্ছেদ, আকাঙ্ক্ষা ও আবেগের প্রতীক। এই অ্যালবামে বিটিএস তাদের কোরিয়ান পরিচয়কে নতুনভাবে তুলে ধরেছে, একই সাথে যুক্ত করেছে আধুনিক সাউন্ড, বিভিন্ন ঘরানার মিশ্রণ। প্রযোজক বাং সি-হেউকের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই অ্যালবাম যেন একদিকে অতীতের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যদিকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা।

অ্যালবামের প্রধান গান ‘সুইফম’ যেন মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছে। ৯০টি দেশে আইটিউনস টপ সংস চার্টের শীর্ষে রয়েছে এটি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স-সব বড় বাজারেই এক নম্বর।

দক্ষিণ কোরিয়ার চার্টেও দ্রুত শীর্ষস্থান দখল করেছে গানটি। একই সাথপ গানটির মিউজিক ভিডিও ৭০টির বেশি দেশে ট্রেন্ডিংয়ে এক নম্বরে উঠে আসে, যা প্রমাণ করে বিটিএসের ভিজ্যুয়াল ও পারফরম্যান্স শক্তি এখনো অপ্রতিরোধ্য।

অ্যালবামটি আইটিউনসের টপ অ্যালবামস চার্টে ৮৮টি দেশে শীর্ষে উঠে এসেছে। ইতালি, মেক্সিকো, সুইডেন-সব জায়গাতেই সমান জনপ্রিয়তা দেখিয়েছে বিটিএস। এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে তাদের বিশাল ভক্তগোষ্ঠী, বিটিএস আর্মি, যারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে এবং প্রতিটি নতুন গান মুক্তিকে উৎসবে পরিণত করে।

এই প্রত্যাবর্তনকে আরো বিশেষ করে তুলেছে তাদের ‘দ্য কামব্যাক লাইভ: আরিরাং’ কনসার্ট। সিউলের গোয়াংহোয়ামুন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এই ওপেন-এয়ার শোটি চার বছর পর তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স। চারপাশে শুধুই গাঢ় বেগুনি রঙ, বিশ্বখ্যাত পপ ব্যান্ড বিটিএস-এর ‘সিগনেচার কালার’। উচু ভবনে ডিজিটাল পর্দা, রাস্তার ধারের বিলবোর্ড, এমনকি সেভেন-ইলেভেন স্টোরের ব্যানারেও লেখা ‘ওয়েলকাম ব্যাক বিটিএস’। তাদের বরণ করতে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল রূপ নিল বিশাল উন্মুক্ত এক মঞ্চে।

বিটিএসের সাত সদস্য আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জংকুক মঞ্চে আসার অনেক আগে থেকে সিউলের অলিগলি ছিল ‘আর্মি’দের (বিটিএস ভক্ত) দখলে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ভেরোনিকা ও আমান্ডা জানান, এই তিন বছর তাদের জন্য ছিল এক দীর্ঘ লড়াই। আমান্ডা বলেন, ‘বিটিএস আমাদের কাছে শুধু একটি ব্যান্ড নয়, আমাদের জীবনের অংশ।’ ভক্তদের হাতে হাজার হাজার ‘লাইট-স্টিক’ আর ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান পোশাক ‘হানবক’ প্রমাণ দিচ্ছিল, এই প্রত্যাবর্তন শুধু গানের নয়, বরং এক আবেগের।

সূর্য যখন মিলিয়ে যাচ্ছিল, তখন হাজার হাজার ভক্তের চিৎকারে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গিয়াংঘোয়ামুন স্কয়ার। হঠাৎ সব শব্দ ছাপিয়ে বেজে ওঠে ঐতিহাসিক ‘ডিভাইন বেল’। বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরং’-এর ‘নাম্বার ২৯’ ট্র্যাক দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। ব্যান্ডের লিডার আরএম কোরিয়ান ভাষায় ভক্তদের অভিনন্দন জানিয়ে ইংরেজিতে ঘোষণা করেন ‘উই আর ব্যাক’।

বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য এটি সরাসরি সম্প্রচার করছে নেটফ্লিক্স, যা এই প্ল্যাটফর্মের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় লাইভ মিউজিক ইভেন্টগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।