
মার্কিন হামলাকে মানবিক হস্তক্ষেপ বলে জানিয়েছেন ইরানের শেষ রাজা (শাহ) মোহম্মদ রেজা শাহ পাহলভির জ্যেষ্ঠ সন্তান নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইরানের সাহসী জনগণকে যে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এখন এসে পৌঁছেছে। এটি একটি মানবিক হস্তক্ষেপ; এবং এর (হামলার) লক্ষ্য ইসলামিক রিপাবলিক, তাদের দমনযন্ত্র এবং হত্যাযন্ত্র-ইরানের মহান দেশ ও জাতি নয়।’
রেজা পাহলভি বলেন, ‘কিন্তু এই সহায়তা পৌঁছানোর পরও চূড়ান্ত জয় আমাদেরই হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাস্তায় ফেরার সময় ঘনিয়ে এসেছে।’
রেজা পাহলভি সামরিক বাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ইরানি জাতির সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে শত্রুতার অবসান এবং ইরানকে একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি এবং একইসাথে ইরানের সামরিক খাতে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার ঘোষণা দেন তিনি।
ওই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমাদের বন্ধুরা, ক্ষমতাসীন ইসলামী প্রজাতন্ত্রী সরকারের দাসত্বে থাকতে থাকতে আপনাদের মনে হয়তো ধারণা হয়েছে যে ইরান মানেই সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ এবং দারিদ্র; কিন্তু এটা ইরানের প্রকৃত চেহারা নয়। সত্যিকারের ইরান হলো একটি সুন্দর, শান্তিপ্রিয় এবং সমৃদ্ধ ইরান, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ক্ষমতাসীন হওয়ার আগে ছিল।
রেজা পাহলভি বলেন, আর কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন নাগরিকদের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হবে, ইসরাইলকে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে। ইরান, ইসরাইল এবং আরব বিশ্বকে মুক্ত করতে ইরান সবসময় আব্রাহাম চুক্তি ও সাইরাস চুক্তি বিস্তারের পক্ষে থাকবে। ইরান আন্তর্জাতিক মান অনুসারে চলবে। একটি মুক্ত ইরান হবে শান্তি, উন্নতি এবং অংশীদারিত্বের প্রতীক।
সূত্র : বিবিসি ও অন্যান্য
