
ঢাকার দুই সিটিসহ বাংলাদেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
নিয়োগপ্রাপ্ত সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক নেতা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মো. আব্দুস সালাম।
ঢাকা উত্তরের শফিকুল ইসলাম খান সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। জামায়াতের আমিরের কাছে তিনি পরাজিত হন।
শফিকুল ইসলাম খান যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিব ছিলেন।
দক্ষিণের প্রশাসক আব্দুস সালাম বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হলেও আবদুস সালাম এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হননি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এছাড়া শওকত হোসেন সরকার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি।
২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত হয়। এর আগে টানা ১০ বছর শওকত হোসেন সরকার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। একই ইউনিয়ন পরিষদে তার বাবা গিয়াসউদ্দিন সরকার, চাচা সোহরাব উদ্দিন সরকার এবং দাদা জবেদ আলী সরকারও চেয়ারম্যান ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।
আলোচিত সাত খুনের মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন। ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী ছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগদলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ৭৮ হাজার ৯৬৭ ভোটের ব্যবধানে তাঁকে পরাজিত করেন।
খুলনায় নিয়োগ পেয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।
২০২১ সালের আগে দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এর মধ্যে ১৬ বছর সাধারণ সম্পাদক এবং ১২ বছর ছিলেন সভাপতি।
সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। তবে এবার জিততে পারেননি। জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে হারেন তিনি।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোটের ভরাডুবির মধ্যেও খুলনা-২ আসনে জয় পেয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। একই বছরের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ছিলেন তিনি। এ দুই নির্বাচনে তিনি হেরে যান।
এবং সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন।
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ২০২২ সালের ২৯ মার্চ সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত সিলেটে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের সমন্বয়কারী ও সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ছিলেন। তিনি বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য।
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন পাননি। এ আসনে দলের মনোনয়ন পান যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি এম এ মালিক। নির্বাচনে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেট জেলার সব কটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ-২০২৪ (সংশোধন) এর ২৫ক এর উপধারা (১) অনুযায়ী করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত তারা সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেমনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
