
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, হাসিনা দেশে ফিরলে গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি হিসেবে কারাগারে যাবেন।
তিনি বলেন, হাসিনা সত্যের মুখোমুখি হতে চাইলে দেশে ফিরে আইনি লড়াই করা উচিত।
শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘আগামী শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হাসিনার বিরুদ্ধে খুন, গুম ও গণহত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না—এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি সত্যের মুখোমুখি হতে চান, তাহলে অবশ্যই দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালানো উচিত।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং এর হাত অনেক লম্বা। হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। আইনও চায় তিনি দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় স্বীকার করুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে যাক।’
হাসিনার বক্তব্য ও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও বার্তা প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তিনি ভিডিও কনফারেন্সে আসার সাহস পাননি, কেবল একটি অডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন, যা অনেকেই এআই-জেনারেটেড বলছেন।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন পরোয়ানাভুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। চার-সাড়ে চার হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশত মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত তিনি।’
এত দিনেও হাসিনার মধ্যে কোনো অনুশোচনা এসেছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন আইনমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন করেন, এতগুলো অপরাধের জন্য হাসিনা জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কি না।
এরপর বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, তার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হবে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। সৃষ্টিকর্তার পরেই যেন মানুষ বিচার বিভাগের ওপর নিজের আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
আসাদুজ্জামান বলেন, অবকাঠামো বা পদ্ধতিগত সংকটের চেয়েও বিচার বিভাগের প্রধান সমস্যা হলো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, এটি কেবল আর দশটা চাকরির মতো কোনো পেশা নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের আমানত রক্ষা করাই তাঁদের মূল দায়িত্ব।
সম্পাদক: মো. আবু মুসা আশ'য়ারী (মনির)
প্রকাশক: ইলিয়াস
www.newsoutlook.net