
কক্সবাজারের দোহাজারী রেলপথ প্রকল্পে সাত লাখ গাছ রোপণের সরকারি দাবি যাচাই করে বাস্তবে প্রায় দুই লাখ গাছ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছুদিন আগে আপনারা খবরে দেখেছেন, আমাদের কক্সবাজারে একটি ট্রেন লাইন গিয়েছে চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী, দোহাজারী হয়ে। ওই দোহাজারীতে প্রায় কয়েক লাখ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে... এই ট্রেন লাইনটা নিতে গিয়ে। আমরা চেষ্টা করছি এগুলোকে রিপ্লেস করতে। যদিও সরকারি হিসাব-নিকাশে বলা হয়েছে সেখানে সাত লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে... টু বি অনেস্ট, আমি সংশ্লিষ্ট যারা গাছ লাগিয়েছে তাদের কাছে রিপোর্টটা নিয়েছিলাম কয়েকদিন আগে... সপ্তাহ দুই-তিনেক আগে... তাদেরকে বললাম যে আপনাদের রিপোর্টটা দেন... দেখি কোথায় কোথায় সাত লাখ গাছ আপনারা রোপণ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘পরে আমি আমার মতন করে ভেরিফাই করেছি, চেক করেছি এবং দেখেছি যে একচুয়ালি ওখানে সাত লাখ গাছ নেই। হার্ডলি ওখানে দুই লাখের মতো গাছ হবে... যেটি খুব দুঃখজনক, ভেরি আনফরচুনেট। আমার মনে হয় এই বিষয়গুলোর প্রতি বোধহয় আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন, একটু সিরিয়াস হওয়া প্রয়োজন।’
বক্তব্যের শুরুতে রাজধানী ঢাকার পরিবেশ পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে খবরটা আপনাদের সামনে বলে আমার বক্তব্যটা আমি উপস্থাপন করব। সেই খবরটা আনফরচুনেট কি ফরচুনেট এটি বিচারের দায়িত্ব আমি আপনাদের কাঁধে ছেড়ে দিচ্ছি, আপনাদের উপরে ছেড়ে দিচ্ছি। খবরটি গতকাল ৮ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে। খবরটিতে বলছে, বিশ্বে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় তৃতীয় স্থানে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা এখানে পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে এসছি। আমার মনে হয় এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলের সিরিয়াসলি না, ভেরি, ভেরি সিরিয়াসলি বোধহয় চিন্তা করার সময় চলে এসেছে। এখানে আজকে আমরা যারা বৃক্ষরোপণই হোক বা পরিবেশের বিষয় হোক, আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। আমাদের সকলের উচিত হবে এই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে যখন যে পরিস্থিতিতে, যে পরিবেশে আমাদের সুযোগ হয়, প্রত্যেকটি মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশ এবং বৃক্ষরোপণ দুটো অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত বলে আমি মনে করি। আমাদের সকলের বোধহয় দায়িত্ব আমাদের সমাজে বহু মানুষ আছেন যারা এই সকল বিষয়ে খুবই অজ্ঞ। এটি অস্বীকার করে খামাখা লাভ নেই। এই অজ্ঞ মানুষগুলোকে এই ব্যাপারে সচেতন করাটা বোধহয় আমাদের দায়িত্ব এবং আমাদের একটা পবিত্র কর্তব্য বলে আমি মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘কেন মনে করি? এইজন্য আমরা যদি ঢাকা শহরের যে এলাকাতেই যাই না কেন, আমরা যদি ঢাকা থেকে আপনাদের প্রত্যেকেরই এখানে নিজের গ্রামের বাড়ি অবশ্যই মনে হয় ঢাকা শহরে নয়, ঢাকা শহরে ঢাকা জেলার বাইরে অন্য বিভিন্ন জেলায়। আমরা যখন হাইওয়েগুলো দিয়ে যদি যাই এবং হাইওয়ের দুপাশের অবস্থাগুলো যদি দেখি, তাহলে আমি যে কথাটি বলতে চাইছি, এই কথাটি বোধয় পরতে পরতে ফিল করার বোধয় যথেষ্ট কারণ আছে।’
‘সভ্য দেশে এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়’
সাভার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত পরশুদিন আমি সাভারে গিয়েছিলাম সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র দেখতে। যাওয়ার সময় দুপাশে মিল-ইন্ডাস্ট্রি আছে, অবশ্যই সেটি একটি ভালো বিষয়। কিন্তু মিল-ইন্ডাস্ট্রির কারণে সবকিছু মিলিয়ে দুপাশের রাস্তার যে অবস্থা, এটি আপনাদের প্রত্যেকেরই চোখে পড়েছে। আমার মনে হয় কোন একটি সভ্য দেশে, একটি সিভিলাইজড দেশে এরকম পরিস্থিতি বোধহয় হওয়ার কারণ নয়। এই অবস্থা তৈরির জন্য কমবেশি আমরা যেরকম সকলেই দায়ী।’
তিনি বলেন, ‘আমরা, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমরা সকলে চেষ্টা করলে এই অবস্থার পরিবর্তনটি আমরা করতে পারব। আমার মনে হয় আজকের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বোধহয় এরকম একটি প্রতিজ্ঞা বা শপথ আমাদের প্রত্যেকের নেওয়া উচিত আজকে।’
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
বক্তৃতা শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পূর্ব পাশে তিনটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সম্পাদক: মো. আবু মুসা আশ'য়ারী (মনির)
প্রকাশক: ইলিয়াস
www.newsoutlook.net