লেবাননে হেজবুল্লাহবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইল

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ দিন আগে

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহ’র বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এসব হামলায় আরো ১৪৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানান লেবাননের কর্মকর্তারা।

এদিকে, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈরুতে তাদের চালানো হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মাকলেদ নিহত হয়েছেন।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্টজ সোমবার বলেন, হেজবু্ল্লাহ সেক্রেটারি জেনারেল নাঈম কাশেম এখন স্পষ্টভাবে তাদের হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।

এমন অবস্থায় সোমবার হেজবুল্লাহর সশস্ত্র কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে লেবানন সরকার। তবে গোষ্ঠীটি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে সোমবার তৃতীয় দিনের মতো পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে ‘সতর্কতামূলক নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের কাছে অবস্থিত এরবিল বিমানবন্দরের আকাশ থেকে তিনটি সশস্ত্র ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিমানবন্দরটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে।

মূলত ইসরাইলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে ইরান।

এর মধ্যে সোমবার কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকালে সেদেশে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

বিমানের ক্রুরা ‘অক্ষত অবস্থায় বেঁচে গেছেন’ এবং তাদের উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।

এরআগে, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননে অবস্থানরত তাদের দেশের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের এক্স পোস্টে লিখেছে, আমরা মার্কিন নাগরিকদের লেবাননে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ যদি বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করে থাকেন, তাহলে ফ্লাইট চালু থাকা অবস্থায় এখনই লেবানন ত্যাগ করুন।

তারা আরো বলেছে, লেবাননের নিরাপত্তা দ্রুতই অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। দেশজুড়ে, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল, বেকা উপত্যকা এবং বৈরুতের কিছু অংশে বিমান হামলা শুরু হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি