সড়কে নিরাপত্তা জোরদার ও অবৈধ মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরযানে জ্বালানি তেল সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্প, প্যাকড পয়েন্ট ও এজেন্সিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরযান সড়ক, মহাসড়ক বা পাবলিক প্লেসে চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ধারা ৪(১) ও ১৬(১) অনুযায়ী বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন সনদ ছাড়া যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ। একইসঙ্গে ধারা ২৫(১) অনুযায়ী ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস দিয়ে কোনো যানবাহন পরিচালনা করা যাবে না।
আইনের এসব বিধান প্রতিপালনের লক্ষ্যে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের ক্ষেত্রে নিজ নামে রেজিস্ট্রেশন সনদ, হালনাগাদ ট্যাক্স টোকেন, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, মানসম্মত হেলমেট, ফিটনেস সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) এবং রুট পারমিট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ছাড়া কোনোভাবেই জ্বালানি সরবরাহ না করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, নির্দেশনা কার্যকরের পর মঙ্গলবার দুপুর থেকেই রংপুর নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ভিড় লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ের মেসার্স সিটি ফিলিং স্টেশন ও শাপলা চত্বরের মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্সসহ কয়েকটি পাম্পে শত শত মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যান বলে জানা গেছে।
যেসব স্টেশনে তেল সরবরাহ রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ট্যাগ অফিসার। জেলার তিনটি জ্বালানি তেল ডিপোতে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে বিশেষ করে অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিপো থেকে পাম্প মালিকরা প্রয়োজনের তুলনায় কম জ্বালানি পাচ্ছেন বলে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। একই মোটরসাইকেল বিভিন্ন পাম্প থেকে ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ কারণে হেলমেট ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রংপুর জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সংগঠক হারুন-অর-রশিদ বলেন, সোমবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পাম্প মালিকদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তা বাস্তবায়ন করবে।
নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, ‘কালোবাজারি ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সূত্র : ইউএনবি
সম্পাদক: মো. আবু মুসা আশ'য়ারী (মনির)
প্রকাশক: ইলিয়াস
www.newsoutlook.net