কমিউনিটি কেয়ার

রুফাইদা আল-ইসলামিয়া স্বাভাবিক সময়েও বিভিন্ন জায়াগায় রোগীদের সেবা প্রদান করেছেন এবং রোগীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের পুরোপুরি সুস্থ করে তোলার চেষ্টা ছিল তার।

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুসারে, মদিনায় তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ভ্রাম্যমাণ ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিয়েছেন।

ভ্রাম্যমাণ দলগুলো স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যের চাহিদা অনুসারে সেবা দিত। এমনকি মরুভূমিতে তীব্র তাপে অজ্ঞান হয়ে পড়া ব্যক্তিদেরও সেবা করতেন তিনি।

মুহাম্মদ নিহালের গবেষণা থেকে জানা যায়, রুফাইদা আল-ইসলামিয়া বিশ্বের প্রথম প্যালিয়েটিভ কেয়ার ব্যবস্থাও শুরু করেছিলেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্যালিয়েটিভ কেয়ার হলো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক কষ্ট কমানো ও জীবনের শেষ সময়ে আরাম ও মানসিক সমর্থন দেওয়ার যে বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা।

গাউস সিওয়ানি লিখেছেন, রুফাইদা আল-ইসলামিয়া ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মহিলা ডাক্তার, নার্স এবং সার্জন হিসেবে পরিচিত।

নিজের সম্পত্তি চিকিৎসার কল্যাণে ব্যবহার এবং ইতিহাসে প্রথম 'বিনামূল্যের হাসপাতাল' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। বদরের যুদ্ধের পর, ঘর ও অর্থ না থাকা আহত অনেক ব্যক্তি যারা বিনামূল্যে চিকিৎসা চেয়েছিলেন, তাদেরকে সুস্থ করে তুলেছিলেন রুফাইদা।

‘রুফাইদা তার সহকারীদের সাথে নিয়ে কেবল রোগীদের চিকিৎসাই করতেন না, তাদের জন্য খাবারও তৈরি করতেন। পরবর্তী অনেক যুদ্ধে, যুদ্ধক্ষেত্রের কাছেই তিনি নিজের তাঁবু স্থাপন করেছিলেন এবং আহতদের চিকিৎসা করেছিলেন।’

সৌদি আরবের প্রথম পিএইচডি নার্স, ড. সুয়াদ হুসেন, ১৯৮১ সালে রুফাইদা আল-ইসলামিয়ার উপর তার গবেষণা প্রকাশ করেন, যা আধুনিক যুগেও তার কাজ সম্পর্কে ধারণা দেয়।

সুয়াদ হুসেন লিখেছেন, নার্সিংয়ের উন্নতির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন রুফাইদা।

উন্নত নার্সিংয়ের ভিত্তি হিসেবে নতুন নীতি এবং ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছিলেন তিনি।

পাকিস্তান ও ভারত সহ বিশ্বের বহু দেশে রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়ার নামে নার্সিং এবং সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে।

একইভাবে, প্রতি বছর বাহরাইনের আরসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উচ্চমানের নার্সিং সেবা প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের রুফাইদাহ আল-ইসলামিয়া পুরষ্কার প্রদান করা হয়।

সূত্র : বিবিসি