
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সংস্কারের প্রশ্নে এতদিন কিছু না বললেও দু’ মাস পর এসে একটি দলের প্রধান হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছেন। নেতা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বললেও কর্মীরা না ভোট চাইতেছে। এখন কর্মীরা যদি না ভোট চায়, তাহলে তাদেরকে গুপ্ত বলবেন। এইভাবে না ভোট চাওয়াও গুপ্ত কাজ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাঁটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমানের কৃষক ঋণ মওকুফের বিষয়ে নাম ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, একটি দল কৃষকদের ঋণ মওকুফ করার কথা বলছে। ২০০১ সালেও তারা কৃষকদের ঋণ মওকুফের কথা বলেছিল, কিন্তু করে নাই। আবারও একই কথা বলছে, কিন্তু ২৫ বছরেও মাফ করে নাই। এবার আবার বললে জিজ্ঞেস করবেন এইবার মাফ করবে কবে?
ভারতের বড় ভাই সুলভ আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা তিন দিক দিয়ে একটা দেশ দ্বারা ঘেরাওয়ের মধ্যে আছি। তাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল ভালো প্রতিবেশি হওয়ার, কিন্তু তারা আমাদের ছোট প্রতিবেশি হিসেবে ট্রিট করতে চায়। এগারো দলীয় ঐক্যজোট সরকার গঠন করলে, আমরা যুবকদের সামরিক ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করব। সামরিক বাহিনীর অধীনে সামরিক ট্রেনিং সদস্য দ্বিগুণ করা হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংস্কারের জন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু শহীদ জিয়া জীবনে একটা ভুল করেছিলেন। বাকশাল গঠনের পরও শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে। হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ফল হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়াসহ বিভিন্ন নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। দেশের মানুষ নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। একটা দল আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আপনারা যদি নির্যাতিত হতে চান! দেশ ছেড়ে যেতে চান। তাহলে আমরা আর আপনাদের পাশে থাকব না।
তিনি বলেন, আমরা দুই হাজার নয় সালের বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শাপলা চত্বর হয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের হত্যার বিচার করব ইনশাআল্লাহ। আমরা সরকার গঠন করলে হিসাব দাও নামে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের আয় ব্যায়ের হিসাব সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ। আমি উপদেষ্টা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সরকারি একটা বাড়ি, একটা খাট ও মেট্রিক্স ফেরত দিয়েছি।
টাঙ্গাইল তিন ঘাটাইল আসনের এগারো দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দারের পক্ষে ভোট চেয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, সাইফুল্লাহ হায়দারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন কোটি চল্লিশ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছিলাম। বিভিন্ন রাস্তাঘাটের উন্নয়নে বরাদ্দ দিয়েছি। আপনারা যদি তাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আপনাদের জন্য সে আরো বেশি করে কাজ করতে পারবে।
