দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেজনে একটি অটো পার্টস কারখানায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৫৯ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে পাঁচ শতাধিক ফায়ার সার্ভিসকর্মী, পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানান, আহতদের মধ্যে ২৫ জনের অবস্থা গুরুতর। তবে কেউ প্রাণসংকটে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, কারখানা এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া বের হচ্ছে। কয়েকজন শ্রমিক ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।
কারখানাটি আনজুন ইন্ডাস্ট্রিয়াল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বলে জানা গেছে।
দেজনের দেদক জেলার ফায়ার চিফ নাম দুক-উ জানান, আগুনে কারখানার একটি ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। সেটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় প্রথমে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে কাঠামো ঠান্ডা করতে ড্রোন ও অগ্নিনির্বাপক রোবট ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তারপর নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়।
নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জনের লাশ তৃতীয় তলার একটি জিমে পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া দ্বিতীয় তলার একটি পানির ট্যাংকের কাছে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। এছাড়া নিখোঁজ সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। তিনি নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আগুনের সঠিক কারণ জানা না গেলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাশের স্থাপনায় আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবং বিস্ফোরক রাসায়নিক আলাদা করতে কাজ করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ কেজির বেশি অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কেউ কেউ ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ায় আহত হয়েছেন, আবার অনেকে ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়ায় অসুস্থ হয়েছেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তাদের মধ্যে চারজনের হাড় ভাঙাসহ বিভিন্ন জখমে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় বিমানসহ প্রায় ১২০টি যান ও সরঞ্জাম, একটি পানি নিক্ষেপকারী যান এবং দুর্গম স্থানে ব্যবহারের জন্য দুটি অগ্নিনির্বাপক রোবট মোতায়েন করা হয়।
সূত্র : ইউএনবি
সম্পাদক: মো. আবু মুসা আশ'য়ারী (মনির)
প্রকাশক: ইলিয়াস
www.newsoutlook.net