
জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জবাবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, শত্রুপক্ষ দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের জ্বালানি ও শক্তি অবকাঠামোর একাংশে হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আগেও সতর্ক করা হয়েছিল যে, যদি আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রু আমাদের দেশের জ্বালানি, শক্তি, গ্যাস এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আক্রমণ করে, তবে শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণের পাশাপাশি আমরা সেই আগ্রাসনের উৎসেও ভয়াবহ আঘাত হানব।"
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা আগ্রাসনকারী দেশগুলোর জ্বালানি ও গ্যাস অবকাঠামোকে আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছি এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেব।
ইরানের গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার পর দেশটি থেকে ইরাকে গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ইরাকের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
রয়টার্স সংবাদ সংস্থার মতে, ইরাক তাদের প্রয়োজনীয় গ্যাস ও বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশের বেশি ইরানের কাছ থেকে আমদানি করে।
ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমেদ মুসা বলেন, অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রভাবে ইরান থেকে ইরাকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একটি প্রজেক্টাইল আঘাতের খবর দিয়েছে ইরান।
সংস্থাটি আরো জানায়, এই ঘটনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কেউ আহতও হননি। তবে তারা সতর্ক করে বলেছে যে, এমন হামলা তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরে, সক্রিয় চুল্লির মাত্র কয়েক মিটার দূরে এই দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরো জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এখনও কর্মরত রুশ নাগরিকদের বিষয়ে রাশিয়া আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করেছিল।
সূত্র : বিবিসি
সম্পাদক: মো. আবু মুসা আশ'য়ারী (মনির)
প্রকাশক: ইলিয়াস
www.newsoutlook.net