মিলেনিয়ালরা বলতে আমরা সাধারণত ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্মানো মানুষদের বুঝি। তারা আজকের প্রজন্মের সবচেয়ে ব্যস্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মশক্তি। কিন্তু দীর্ঘদিনের ৯টা থেকে ৫টা অফিস জীবন, ক্রমাগত ডেডলাইন, টক্সিক অফিস সংস্কৃতি এবং ধীর ক্যারিয়ার গ্রোথের চাপ এখন অনেক মিলেনিয়ালকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করছে।
অফিসের দৈনন্দিন রুটিন যেন একধরনের ‘চক্র’ সকাল ওঠা, টাই বাঁধা, অফিসে ঢোকে দিন কাটানো, বাসায় ফিরে রাত পর্যন্ত কাজ করা। ভারতের মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ থেকে ৫২.৯ শতাংশ কর্মী বিষণ্নতা অনুভব করছেন, আর ৭ শতাংশ থেকে ৫৭ শতাংশ উদ্বেগের শিকার। দীর্ঘ ঘণ্টা কাজ, ডিজিটাল ফ্যাটিগ, এবং সীমিত সংস্থাগত সহায়তা এই সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে। প্রায় ৬০ শতাংশ পেশাজীবী বার্নআউটের লক্ষণ যেমন অনুপ্রেরণার অভাব, ক্রমাগত ক্লান্তি, আগ্রহ হারানো, ঘুমের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বার্ণআউটের সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। মূলত বার্ণআউট হলো মানসিক, শারীরিক এবং আবেগিক সম্পূর্ণ ক্লান্তি বা একধরনের 'চাপের অতিরিক্ত চাপের ফল' যা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বা চাপের পরিস্থিতিতে থাকার কারণে হয়। এটা শুধু ক্লান্তি নয় এটি কাজ, পড়াশোনা বা অন্যান্য দায়িত্বের প্রতি আগ্রহ হারানো, অনুপ্রেরণার অভাব, দুশ্চিন্তা এবং হতাশার অনুভূতির সংমিশ্রণ।
এই পরিস্থিতি সামলাতে মিলেনিয়ালরা নতুন পথে হাঁটছে। তাদের মধ্যে কিছু ‘বেড রটিং’ ট্রেন্ডের দিকে ঝুঁকছে অর্থাৎ সপ্তাহান্তে পুরো দিন বিছানায় থাকা বা কোনও কাজ না করা। তবে অনেক মিলেনিয়াল আরো রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরাসরি ৯টা থেকে ৫টার চাকরি ছেড়ে ধীরে, স্বাধীন ও মানসিক শান্তিপূর্ণ জীবন বেছে নিচ্ছে। তারা টায়ারডিন, হিমশীতল কাঁচের অফিসের পরিবর্তে ছোট শহর বা নিজের জন্মস্থান ফিরছে, রিমোটলি কাজ করছে, ফ্রিল্যান্সিং করছে বা পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে করেকজন মিলিনিয়রদের সাথে কথা বলে তাদের চাকরি ছেড়ে নতুন করে জীবন গড়ার বিষয়টি জেনেছে। নিখিতা সিংহ নামের এক নারী ২৯ বছর বয়সে চাকরি ছেড়ে নিজস্ব বুটিক পিআর এজেন্সি শুরু করেছেন। তিনি এখন জোধপুর থেকে রিমোটলি কাজ করছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা এবং নিজের কিছু তৈরি করার সুযোগ সত্যিই পূর্ণতা দিচ্ছে।
মায়া রাওয়াত নামের একজন ফ্রিল্যান্সার জানায় ফ্রিল্যান্সিং করে আত্মনির্ভরতা অর্জন করেছেন। জন্মস্থানে ফিরে থাকার কারণে তার খরচ কমেছে, পরিবারের সহায়তা করতে পারছেন, এমনকি নতুন বাড়ি বানাতেও অবদান রেখেছেন।
সোনিয়া নামের আরেক নারী জানান, অফিসের টক্সিক পরিবেশ থেকে দূরে থেকে এখন সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে কাজ করছেন, যা বার্নআউট প্রতিরোধে সাহায্য করছে।
তবে সবাই চাকরি ছাড়তে পারবে না। মায়ো ক্লিনিকের মতে, স্ট্রেস কমানোর বিকল্প আছে। যেমন ম্যানেজারের সঙ্গে আলোচনা করা, সহকর্মী বা বন্ধুদের সমর্থনংয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, ঘুম ঠিক রাখা, মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিস করা।
মিলেনিয়ালদের বেশিরভাগ মনে করে জীবনের মান শুধু ক্যারিয়ারে নয়, মানসিক শান্তি, স্বাধীনতা এবং নিজের জন্য সময় দেয়া গুরুত্বপূর্ণ। কেউ চাইলে চাকরি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ জীবন বেছে নিতে পারে, আর যারা তা করতে পারছে না, তাদের জন্যও ছোট পরিবর্তন ও মানসিক যত্ন জীবনকে অনেক শান্তিময় করে তুলতে পারে। এক কথায়, ব্যস্ত জীবন থেকে এক ধাপ সরে আসা এবং নিজেকে সময় দেওয়াই হচ্ছে আসল বিজয়।
সূত্র: এনডিটিভি
সম্পাদক: মো. আবু মুসা আশ'য়ারী (মনির)
প্রকাশক: ইলিয়াস
www.newsoutlook.net