এবারের লক্ষ্যবস্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

লেখক: নিউজ আউটলুক ডেস্ক
প্রকাশ: ৪১ minutes ago

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর নতুন

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে সমন্বিত হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাথে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর পাশের এলাকায় আঘাত হানার তথ্য সামনে আসায় হামলার লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা দেশব্যাপী সংঘটিত হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকা অন্তর্ভুক্ত।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরানের উত্তরে শেমিরানে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিকটবর্তী এলাকায় সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। একই সাথে খামেনির কম্পাউন্ডের কাছেও হামলা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, রাজধানীতে খামেনির কার্যালয়ের কাছেও হামলা হয়েছে।

কোথায় আছেন খামেনি?

বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, খামেনি তেহরানে নেই এবং তাকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কে এই খামেনি?

৮৬ বছর বয়সী এই ইসলামি চিন্তাবিদ ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রভাবশালী নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি, যিনি নির্বাসন থেকে ফিরে এসে ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।
খামেনি সরকারের সব শাখা, সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব ধারণ করেন। একই সাথে তিনি দেশের আধ্যাত্মিক নেতার ভূমিকাও পালন করেন।

তার শাসনামলে আলী খামেনি পশ্চিমা বিশ্বের সাথে বৈরী সম্পর্ক, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং দেশের ভেতরে অর্থনীতি ও অধিকার ইস্যুতে একাধিক দফা বিক্ষোভ মোকাবিলা করেছেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ‘এক নম্বর শত্রু’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, আর তার ঠিক পেছনেই রয়েছে ইসরাইল।

খামেনির ক্ষমতার মূল ভিত্তি হলো ইরানের দুটি প্রধান নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের আনুগত্য Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) এবং Basij আধাসামরিক বাহিনী, যাদের শত-সহস্র স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে।

খামেনি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র বেসামরিক উদ্দেশ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা কেউই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এমন প্রমাণ পায়নি। তবুও ইসরাইল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু অংশ এই অভিযোগ তুলে আসছে।

খামেনি সম্পর্কে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল?

দুই দেশের কর্মকর্তারাই এর আগে খামেনির বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানে হামলা এবং তেহরানের পাল্টা জবাবের পর ১২ দিনের যুদ্ধ শেষে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ বলেন, খামেনি অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারেন না।

তিনি বলেন, ‘খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইরানের মতো একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্বে আছেন এবং যার ভয়াবহ লক্ষ্য ইসরাইলকে ধ্বংস করা, তিনি আর টিকে থাকতে পারেন না।’

একই মাসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দেন, খামেনিকে হত্যার প্রচেষ্টা চালানোর সম্ভাবনা ইসরাইল নাকচ করেনি।

তার মতে, এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের সংঘাত ‘সমাপ্ত’ করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও খামেনিকে উদ্দেশ করে হুমকিসূচক মন্তব্য করেছেন।

চলতি মাসের শুরুতে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে, তখন ইরানের নেতার ‘খুবই উদ্বিগ্ন থাকা উচিত।’

অন্য আরেক মন্তব্যে তিনি বলেন, ইরানে শাসন পরিবর্তন (regime change) ‘সবচেয়ে ভালো ঘটনা’ হতে পারে এবং ‘এমন মানুষ আছে’ যারা নেতৃত্ব নিতে পারে, যদিও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

গত বছর ইরানে হামলার নির্দেশ দেওয়ার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খামেনি ‘সহজ লক্ষ্যবস্তু’ হতেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ঠিক জানি তথাকথিত ‘সুপ্রিম লিডার’ কোথায় লুকিয়ে আছেন। তিনি সহজ লক্ষ্যবস্তু, কিন্তু সেখানে নিরাপদ আছেন, আমরা তাকে সরিয়ে দেব না (হত্যা করব না!), অন্তত এখনই নয়।’

সর্বশেষ হামলার লক্ষ্য কী ছিল?

আজকে হামলার পর দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন, ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ (annihilate) করা হবে এবং ইরানিদের তাদের সরকার উৎখাত করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা শেষ করলে, তোমরাই তোমাদের সরকার দখল করে নাও। সেটি তোমাদের নেওয়ার জন্যই থাকবে। সম্ভবত প্রজন্মের পর প্রজন্মে এটাই তোমাদের একমাত্র সুযোগ।’

সূত্র : আল জাজিরার