অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গণহারে হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে : সালাহউদ্দিন আহমদ

লেখক: Eleyas Rajon
প্রকাশ: ৩ দিন আগে

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী গণহারে হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যেসব মানুষ মামলাবাজির শিকার হয়ে ভোগান্তিতে আছেন, সেসব মামলা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পুলিশকে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পর বেশকিছু মামলায় অনেক ব্যবসায়ী, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। অনেক মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাদের ভোগান্তি যেন না হয় সে ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালহউদ্দিন আহমদ এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিনি উন্নয়ন করা ও জনমনে স্বস্তি শান্তি দেয়া।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশে মব কালচার শেষ। যদি কোথাও হয়ে থাকে আমরা অ্যাড্রেস করবো।

‘মব কালচারের বিরুদ্ধে আমরা রিয়েক্ট করবো খুব কঠোরভাবে। দেশে কোনো মবকালচার থাকবে না। মব সৃষ্টির মাধ্যমে মহাসড়ক সড়ক অবরোধের মাধ্যমে দাবি আদায় করার জামানা শেষ। বৈধ পন্থায় স্মারক লিপি দেবে, মিছিল করবে, সমাবেশ করবে আদালতে যাবে।’

‘যেকোনো বৈধ আইনানুগ দাবি দাওয়া থাকলে সেটা যথাযথ ফোরামে উপস্থাপন করবে বিবেচনা হবে এটাই নিয়ম। রাস্তায় দাড়িয়ে গেলাম পরীক্ষা দেব না আগামীকালকে সেটা হবে না।’

বৈঠকে পুলিশ সুপারদেরকে দেশে রাজনৈতিক কারণে বিধির বাইরে কোনো ব্যক্তিকে প্রোটোকল না দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ২৭০১ শূণ্য পদে কনস্টেবল নিয়োগ দেয়া এবং অতীতে সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবলদের নাম ঠিকানা জালিয়াতি হয়েছে কী-না সেটি তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সারাদেশে নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে ওসিদের বদলি হয়েছিল সেটি এখন যোগ্যতা-দক্ষতা বিবেচনায় নতুন করে বদলির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ প্রক্রিয়া ‘স্বচ্ছ ছিল না’ বলেও মনে করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি বন্ধে দলিল লেখকদের আদলে পরীক্ষামূলকভাবে সহায়তাকারীদের নিবন্ধন দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরো জানান, পুলিশের কাজে অবৈধভাবে কেউ যাতে হস্তক্ষেপ করতে না পারে – এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেউ পুলিশের কাজে বাধা দিতে পারবে না। তবে পুলিশের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা হবে। যাতে এই সুযোগ নিয়ে পুলিশ যেন কোনো জনভোগান্তির কারণ না হয়।।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, বিগত সরকারের সময় দেয়া অস্ত্রের লাইসেন্স পূণরায় ভেরিফিকেশন ও যাচাই বাছাই করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ সময় পিলখানায় সংঘটিত ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত করতে নতুন করে কমিশন গঠন করতে চায় সরকার বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটার জন্য আরেকটা তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা বলেছি, আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে। আমাদের ইশতেহারের মধ্যেও আছে। আমরা বিডিআর (বিদ্রোহের) ঘটনাটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনঃতদন্ত অথবা একটা কমিশন গঠন করে কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে কাজ করবো। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সূত্র : বিবিসি